সবাই ভালো আছে ভাবলেও, কেউ জানে না আমি কতটা ভেঙে পড়েছি।
বাইরে থেকে দেখলে আমাকে খুব সাধারণই লাগে। প্রতিদিনের মতো হাসি, কথা বলি, কাজ করি, সবার সাথে মিশি। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলি, “হ্যাঁ, আমি ভালো আছি।” এই “ভালো আছি” কথাটা এতবার বলেছি যে এখন আর কেউ সন্দেহও করে না। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমার ভেতরে এক অদৃশ্য ঝড় বয়ে যায় প্রতিদিন। এমন এক ঝড়, যার শব্দ শুধু আমি শুনি, যার ধ্বংস শুধু আমার মনেই দেখা যায়।
রাত হলেই সবকিছু বদলে যায়। চারপাশ যখন চুপচাপ, তখন মনের ভেতরের শব্দগুলো আরও জোরে বাজতে থাকে। পুরোনো স্মৃতি, অপূর্ণ স্বপ্ন, ভাঙা বিশ্বাস—সব একসাথে এসে মনে করিয়ে দেয় আমি কতটা ক্লান্ত। কখনো কখনো মনে হয়, আমি যেন একটা অভিনয় করছি। সবার সামনে শক্ত থাকার অভিনয়, স্বাভাবিক থাকার অভিনয়, সুখী থাকার অভিনয়। অথচ আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের চোখেই নিজের ভাঙাচোরা চেহারাটা স্পষ্ট দেখা যায়।
মানুষ ভাবে, আমি বদলে গেছি। আগের মতো হাসি না, আগের মতো গল্প করি না। কিন্তু কেউ জানতে চায় না কেন বদলেছি। কেউ খেয়াল করে না যে, অতিরিক্ত চুপ হয়ে যাওয়াটাও একটা সংকেত। কেউ বোঝে না, অনেক সময় কথা না বলাটাই সবচেয়ে বড় চিৎকার। আমি কাউকে দোষ দিই না; হয়তো প্রত্যেকেই নিজের জীবনের লড়াইয়ে ব্যস্ত। তবুও মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, কেউ একজন শুধু পাশে বসে বলুক, “তুই সত্যিই কেমন আছিস?”
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় তখন, যখন নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগে। যে স্বপ্নগুলো একসময় এত রঙিন ছিল, এখন সেগুলো ধূসর। যে মানুষটাকে এত বিশ্বাস করতাম, সে-ই হয়তো দূরে সরে গেছে। কিংবা হয়তো জীবনের বাস্তবতাই আমাকে বদলে দিয়েছে। ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়লেও, বাইরে থেকে শক্ত থাকার এই অভ্যাসটা ছাড়তে পারি না। কারণ আমি জানি, দুর্বলতা দেখালে সবাই বুঝবে না—অনেকে হয়তো বিচার করবে।
তাই আমি চুপ থাকি। নিজের ভাঙা টুকরোগুলো নিজেই জোড়া লাগানোর চেষ্টা করি। কখনো সফল হই, কখনো হই না। তবুও প্রতিদিন সকালে নতুন করে উঠে দাঁড়াই, আবারও সেই একই মুখোশটা পরে নিই। কারণ পৃথিবী থেমে থাকে না কারও কষ্টের জন্য।
হয়তো একদিন সত্যিই ভালো থাকব। হয়তো একদিন এই ভাঙাচোরা অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে সেরে যাবে। কিন্তু আজ, এই মুহূর্তে—সবাই ভালো আছে ভাবলেও, কেউ জানে না আমি কতটা ভেঙে পড়েছি। আর সেই অজানা কষ্টটুকু নিয়েই আমি বেঁচে আছি, নিঃশব্দে, অদৃশ্যভাবে। ????
Sponsored